দিঘলিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি।।খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার জামান জুট মিলস লিমিটেডের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি, শ্রমিক-কর্মচারীদের মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ভাঙচুর এবং প্রকাশ্যে হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় মিলের শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে দিঘলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মিলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দিন মাহাবুব চন্দন।
অভিযোগপত্রে শেখ সালাউদ্দিন মাহাবুব চন্দন উল্লেখ করেন, তিনি জামান জুট মিলস লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তার অভিযোগ অনুযায়ী, দিঘলিয়া থানাধীন কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে জামান জুট মিলের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করে আসছেন।
তাদের বিরুদ্ধে শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখে মিলের রপ্তানি সড়ক বন্ধ করাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তদের একজন মিলের ভেতরে প্রবেশ করে বাঁশের লাঠি-সোটা দিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের মারধর করেন এবং মিলের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।
এর ফলে প্রায় দুই সপ্তাহ মিলের কার্যক্রম ব্যাহত হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে মিলের স্বাভাবিক উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম এবং শ্রমিকদের মজুরিসহ বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
পরে শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশের সহযোগিতায় মিলের কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয় এবং ওই ঘটনার পর দিঘলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয় বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১০ জুলাই ২০২৬ তারিখে মিলের এক নারী নিরাপত্তাকর্মীকে জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে দিঘলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে বলে অভিযোগকারী দাবি করেন।
এ ছাড়া গত ২৪ মে ২০২৬ তারিখে মিলের রপ্তানির পাকা রাস্তা দখলের চেষ্টা করে ঝামেলা সৃষ্টি এবং মিল উচ্ছেদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
পরবর্তীতে গত ১০ জুলাই ২০২৬ তারিখে মিলের মূল গেটের সামনে গাছ লাগানোর চেষ্টা করে পুনরায় ঝামেলা সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পরবর্তীতে গাছের ফল পাড়াকে কেন্দ্র করেও শ্রমিকদের সঙ্গে অভিযুক্তদের বাদানুবাদ হয়।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১০ জুলাই ২০২৬ তারিখে মিলের আমদানি-রপ্তানি কাজে নিয়োজিত ট্রাকচালকদের মারধরের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে মিলের ট্রাক চলাচলে বাধা না দেওয়ার জন্য কয়েকজনকে অনুরোধ করা হলে অভিযুক্তদের একজন প্রকাশ্যে মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অভিযোগকারীসহ উপস্থিত শ্রমিকদের হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, ওই সময় একজন অভিযুক্ত তার ছেলেকে অন্য এক অভিযুক্তের হাতে বন্দুক এনে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় উপস্থিত শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ডের কারণে গত ১২ জুলাই থেকে ২২ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মিলের রপ্তানি কার্যক্রম একাধিকবার বন্ধ রাখতে হয়েছে। এতে মিল কর্তৃপক্ষ ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলে অভিযোগকারী দাবি করেন।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের একজনের মিলের পাশে কোনো জমি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা বৈধ লেনদেনের সম্পর্ক নেই।
এরপরও তিনি বিভিন্ন অজুহাতে মিলের জায়গা ও চলাচলের রাস্তা দখলের চেষ্টা করছেন এবং মিলের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে আসছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, অভিযুক্তরা বর্তমানে মিলের শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে বন্দুক দিয়ে গুলি এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি মিল পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দিচ্ছেন। এতে মিলের সম্পদ এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
এ অবস্থায় অভিযোগকারী দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, জামান জুট মিলস লিমিটেডের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও রপ্তানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখা এবং মিলের শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।অভিযোগগুলোর সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং আইনগত দায় নির্ধারণের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জামান জুট মিলস লিমিটেড দিঘলিয়া, খুলনা এলাকায় একটি নিবন্ধিত জুট মিল হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে।