নড়াইল প্রতিনিধি।। নড়াইলের লোহাগড়ার মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের জের ধরে ভ্যানচালক মিরচান সরদার হত্যার ঘটনায় প্রতিপক্ষের কমপক্ষে ১৭টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার পরিবারগুলোর সদস্যরা গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে । তবে পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা। পুলিশের ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডের পরপরই কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর কথা স্বীকার করলেও লুটপাটের কথা অস্বীকার করেছেন।
কোটাকোল ইউনিয়নের এ গ্রামটি ছোট্ট কিন্তু গ্রাম্য কোন্দলের শিরোমনি। দীর্ঘদিন ধরে এ গ্রামে দুটি পক্ষে ভাগ হয়ে দ্বন্দ্ব, সংঘাত ও সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ছে। সহিংসতায় ঝরছে গ্রামের নিরীহ সাধারণ মানুষের রক্ত। সবচেয়ে অবাক করা বিষয়টি হলো, কোন্দল প্রিয় এ গ্রামের দুটি পক্ষের শীর্ষ নেতারা বিএনপি ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। ফলে, যখন যে দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকে, তারাই কোন্দলে জড়িয়ে পড়েন। যে কারণে, কোন কিছুতেই কোন্দল থামছে না।
জানা গেছে, গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের জের ধরে মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামের আজমল মুন্সি ও কামাল হোসেন সমর্থিত লোকজনের সাথে একই গ্রামের শহিদুল মোল্লা ও হিরাঙ্গীর মোল্লা সমর্থিত লোকজনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
বিরোধের জের ধরে সোমবার রাতে কথিত গরু চুরির ঘটনায় ওই গ্রামের তুহিন নামের এক যুবক শহীদুল মোল্যা সমর্থিত লোকজনের হাতে আটক হয় এবং এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
উক্ত ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে শহিদুল মোল্যা, হীরাঙ্গীর মোল্যার নেতৃত্বে মিল্লাত, হোসেন, লিয়াকত সরদার, জসিম উদ্দিন, রবিউল শেখসহ অন্তত ৩৫/৪০ জনের একদল গ্রাম্য সন্ত্রাসী ঢাল, সড়কি, রামদা দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে মিরচানকে কুপিয়ে হত্যা করে।
মিরচান হত্যাকাণ্ডের পর পরই প্রতিপক্ষের হাবিবুর রহমানসহ তার সাত ভাইয়ের বাড়ি, ওমর মুন্সি, কালাম মুন্সি, আছর মুন্সি, খাজা সরদার, রঙ্গের মোল্লা, তোয়েব শেখ, আসুক মোল্লা, এনায়েত মোল্লা,শফিকুল মোল্লা, হেমায়েত মোল্লার বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রহমান বলেন, "হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই গ্রামের
ইখলাছ মোল্লা ও হীরাঙ্গীর মোল্লা নামের দুই ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, "হত্যাকাণ্ডের পর ৩/৪টি বাড়ি ভাঙচুর করা হলেও কোন লুটপাটের ঘটনা ঘটে নাই। সার্বিক পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।