"কয়রায় প্রাকৃতিক সম্পদ ঝিনুক পাচারকালে ট্রাক জব্দ, কারাগারে ২"
মোঃ ফয়সাল হোসেন কয়রা উপজেলা প্রতিনিধি।। খুলনার কয়রায় কপোতাক্ষ নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করা ঝিনুক পাচারের সময় একটি ট্রাক জব্দ করেছে বন বিভাগ ও কয়রা থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ২ জনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বাগালী ইউনিয়নের সোহরাফ শিকারীর পরিত্যক্ত ইটভাটার কয়রা নদীর তীরে যৌথ অভিযান চালানো হয়। এ সময় ঝিনুক বোঝাই একটি ট্রাক (খুলনা মেট্রো-১১-১১২২) আটক করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ২০০ কেজি ঝিনুক উদ্ধারের কথা জানানো হয়।
আটককৃতরা হলেন- নড়াইলের পলাশ সরদার (৪৫) ও বটিয়াঘাটা উপজেলার শৈলমারী এলাকার ট্রাকচালক মিঠু সানা (৩৮)।
*তবে এই জব্দ নিয়েই উঠেছে বড় প্রশ্ন।*স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি ট্রাকে সাধারণত ২০০ থেকে ২৫০ বস্তা ঝিনুক লোড করে নিয়ে যাওয়া হয়। এক বস্তায় প্রায় ৪০ কেজি ঝিনুক ধরে। সেই হিসাবে একটি ট্রাকে ৮ থেকে ১০ টন ঝিনুক থাকার কথা। সেখানে মাত্র ২০০ কেজি অর্থাৎ ৫ বস্তা ঝিনুক জব্দ দেখানো হয়েছে। বাকি ঝিনুক কোথায় গেল, তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক প্রশ্ন ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, সুন্দরবন সংলগ্ন কপোতাক্ষ, কয়রা ও শাকবাড়িয়া নদীর তলদেশ থেকে ড্রেজিং মেশিন দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে শামুক-ঝিনুক আহরণ করা হচ্ছে, যা নদীর জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করছে।
এ বিষয়ে পশ্চিম সুন্দরবনের কাশিয়াবাদ স্টেশন কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দীন বলেন, "গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ট্রাকসহ ২ জনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা ঝিনুক আদালতের নির্দেশে শাকবাড়িয়া নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। জব্দ ট্রাকটি বন বিভাগের হেফাজতে আছে।"
খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. সাজমিনুল ইসলাম বলেন, "এ ঘটনায় বন আইনে মামলা হয়েছে এবং আটকদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। সুন্দরবনের সম্পদ রক্ষায় অভিযান অব্যাহত থাকবে।"
সচেতন মহলের দাবি, ৫'বস্তা শুধু ২০০ কেজি নয়, পুরো ট্রাকের ঝিনুকের হিসাব প্রকাশ এবং এই পাচার চক্রের মূল হোতাদের খুঁজে বের করা হোক।