1. [email protected] : admi2019 :
| বঙ্গাব্দ

নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ সেপ্টেম্বর খুলছে সুন্দরবন

রিপোর্টারের নামঃ Admin
  • আপডেট টাইমঃ 30-08-2026 ইং
  • 15 বার পঠিত
ad728

মোঃ ফয়সাল হোসেন কয়রা উপজেলা প্রতিনিধি।। টানা তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর খুলছে সুন্দরবন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বনের নদী-খালে মাছ ও কাঁকড়া আহরণে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কয়রাসহ সুন্দরবনসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকার জেলেরা। সুন্দরবন খোলার দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে তাদের ব্যস্ততা।

কয়রা ও আশপাশের সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার অনেক জেলে পুরোনো নৌকা মেরামত করছেন, কেউ নতুন নৌকা প্রস্তুত করছেন। পাশাপাশি জাল, দড়ি ও মাছ-কাঁকড়া আহরণের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও গুছিয়ে নিচ্ছেন তারা। দীর্ঘদিন পর বনে যাওয়ার সুযোগ পাওয়ায় আবারও আয়-রোজগারে ফেরার প্রত্যাশা করছেন বননির্ভর মানুষ।

উত্তর বেদকাশীর জেলে আমজাদ হোসেন বলেন, প্রায় ৪২ বছর জঙ্গলে মাছ ধুরি কোন রকম খাই পুরি বাঁচি আছি। জঙ্গল ছাড়া আর আমায় কামায়ের অন্য কোনো জাগা নেই।

তিনি বলেন, তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকার বা বন বিভাগের কাছ থেকে কোনো সহায়তা পাননি। এতে সংসার চালাতে কষ্ট হয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞার পর সুন্দরবনে মাছ তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায় বলে তাঁর অভিজ্ঞতা।

তিনি আর বলেন, সুন্দরবন খুললে আবার নৌকা নিয়ে বনে যেতে হবে। তবে সেখানে মাছ কতটা পাওয়া যাবে, তা আগে থেকে বলা যায় না। দীর্ঘদিন পর বনে যাওয়ার সুযোগ পাওয়ায় আয়-রোজগার করে সংসার চালানোর আশা করছেন তিনি।

আমজাদ হোসেন আরও বলেন, সুন্দরবনে যেতে নৌকা প্রস্তুত করা, বাজার-সওদা ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে একটি নৌকা নামাতেই প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়। বিভিন্ন ধরনের খরচ থাকায় বনে যাওয়ার আগেই জেলেদের বড় অঙ্কের টাকা প্রস্তুত রাখতে হয়।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মাছ ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। এ সময়ে জেলে, বনজীবী ও পর্যটকদের প্রবেশও বন্ধ ছিল। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে নির্ধারিত নিয়ম ও পাস-পারমিটের মাধ্যমে আবার সুন্দরবনে প্রবেশের সুযোগ মিলবে।

সুন্দরবন খোলার সঙ্গে সঙ্গে কয়রা ও আশপাশের নদীঘাট, বাজার এবং মাছ-কাঁকড়ার ব্যবসাকেন্দ্রগুলোতেও কর্মচাঞ্চল্য বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। জেলেদের নৌকা ও জাল প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে মাছ-কাঁকড়া সংরক্ষণ ও পরিবহন—সব ক্ষেত্রেই নতুন করে ব্যস্ততা তৈরি হবে।

তবে সুন্দরবনে প্রবেশের পর নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার, বিষ দিয়ে মাছ ধরা, বন্যপ্রাণী শিকার এবং অনুমোদন ছাড়া প্রবেশ বন্ধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা গেলে এর ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন-জীবিকাও দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ থাকবে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Facebook Video
Facebook Video