আরিফুল ইসলাম রিয়াজ, মোল্লাহাট, বাগেরহাট।। “সাংবাদিকের ওপর হামলা মানে শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা নয় এটি জনগণের জানার অধিকার ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত।
গত ২২ থেকে ২৮ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত এক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন স্থানে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীদের উপর হামলা, মামলা, মারধর, হুমকি, সংবাদ সংগ্রহে বাধা, পেশাগত সরঞ্জাম ভাঙচুর এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটি (BJPC)।
গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী শরীয়তপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সময় টেলিভিশনের সাংবাদিক বি এম ইসরাফিল হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই জেলায় পরবর্তীতে দ্যা ডেইলি স্টারের জাহিদ হাসান, নিউজ২৪ ও জাগো নিউজের বিধান মজুমদার এবং দৈনিক এদিনের বরকত মোল্লা সংবাদ সংগ্রহকালে হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন।
পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি আরও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পিরোজপুরে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে স্টার নিউজ ও নয়া দিগন্তের শফিকুল ইসলাম মাসুদ, চ্যানেল ওয়ানের শাফিউল মিল্লাত এবং চ্যানেল এস-এর জিয়াউল হক হামলা ও পেশাগত কাজে বাধার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন।
কুমিল্লায় সংবাদ সংগ্রহে যাওয়ার পথে যমুনা টেলিভিশনের রফিকুল ইসলাম চৌধুরী খোকন, ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের তানভীর দীপু এবং স্টার নিউজের আবদুল্লাহ আল মারুফ হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একজন প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে বলে সংবাদে এসেছে।
রাজধানীর উত্তরায় সংবাদ সংগ্রহের সময় গ্রীন টিভির আশিক এলাহী, সজীব প্রান্ত ও ক্যামেরাপারসন সৈয়দ মেহেদী হাসান হামলার শিকার এবং তাদের ক্যামেরা, সাউন্ড ডিভাইস ও মোবাইল ফোন ভাঙচুরের অভিযোগ করেছেন। এছাড়া কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় সাংবাদিক হাসান ইমাম রুবেলকে উড়ো চিঠির মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলে সংবাদে প্রকাশিত হয়েছে।
অন্যদিকে, শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টিও BJPC গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সংগঠনটি মনে করে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যেকোনো মামলা হলে তা যেন আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া, প্রমাণ ও ন্যায়বিচারের নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হয় এবং কোনো অবস্থাতেই যেন সাংবাদিকতাকে হয়রানি বা প্রতিশোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা না হয়।
সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি কিংবা তাদের পেশাগত সরঞ্জাম নষ্ট করা শুধু একজন সংবাদকর্মীর ওপর আঘাত নয়, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের জানার অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত।
বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সাংবাদিকরা কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক পক্ষের প্রতিপক্ষ নন। তারা জনগণের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করতে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন।
বিজেপির পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়, সাংবাদিকের নিরাপত্তা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি গণতান্ত্রিক সমাজে জনগণের তথ্য জানার অধিকারের অন্যতম পূর্বশর্ত। মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কোনো সংবাদ নিয়ে অভিযোগ থাকলে তার প্রতিকার আইন ও প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী হতে পারে।
কিন্তু সাংবাদিককে শারীরিকভাবে আক্রমণ, হুমকি প্রদান, সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া কিংবা পেশাগত সরঞ্জাম নষ্ট করার কোনো সুযোগ নেই।
বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটি (BJPC) সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় তার অবস্থান অব্যাহত রাখবে এবং সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনা পর্যবেক্ষণ করবে।
| ফজর | ৫.৩০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪ টা বিকাল |
| মাগরিব | ৬ টা সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৩০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৪০ মিনিট দুপুর |

