আরিফুল ইসলাম রিয়াজ, মোল্লাহাট, বাগেরহাট।।বাগেরহাটের মোল্লাহাটে মধুমতি নদীসহ প্রায় সবগুলো খাল-বিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে চায়না দুয়ারী ও বেহুন্দি জাল। দেওয়া হচ্ছে অবৈধ পাটা। এতে ধ্বংস হচ্ছে দেশীয় মাছের পোনা ও জলজ জীববৈচিত্র্য। দেশীয় মাছের উচ্চমূল্যের কারণে দরিদ্র পরিবারগুলো খুব কমই দেশীয় প্রজাতির মিঠা পানির মাছের স্বাদ গ্রহণ করতে পারছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আমিষের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে।
মঙ্গলবার (১৮ আগষ্ট) সরজমিনে ঘুরে উপজেলার মধুমতি নদী, আঠারোবাঁকি নদী, কোদালিয়া, কেন্দুয়া, ধবলিয়াসহ বিভিন্ন বিল ও খালে অবৈধভাবে চায়না দুয়ারী জাল, বেহুন্দি জাল ও ঘুনি ফাঁদ ব্যবহার করে মাছ শিকার করতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও খালে পাটা দিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এসব অবৈধ উপকরণে বড় মাছের পাশাপাশি নির্বিচারে ধরা পড়ছে দেশীয় মাছের পোনা ও অন্যান্য জলজ প্রাণী। ফলে হুমকির মুখে পড়ছে দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য।
সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে মধুমতি নদীতে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে প্রায় দুই হাজার মিটার দীর্ঘ ৪০টি চায়না জাল ও চারটি বেহুন্দি জাল জব্দ করা হয়। মৎস্য আইন লঙ্ঘনের দায়ে দুই ব্যক্তিকে মোট ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। পরের দিন কোদালিয়া বিলে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজীব রায়ের নেতৃত্বে পৃথক অভিযান চালানো হয়। অভিযানে প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের ৩৮টি চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করে পরে জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়। একই সঙ্গে মাছের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে দুটি অবৈধ পাটা কেটে অপসারণ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমনা আইরিন বলেন, অবৈধ জাল ও পাটা ব্যবহার করে মাছ শিকার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। দেশীয় মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি স্থানীয় জেলে ও সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজীব রায় বলেন, দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অবৈধ মৎস্য আহরণ বন্ধ করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়দের মতে, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; নিয়মিত অভিযান, জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জনপ্রতিনিধি ও সচেতন এলাকাবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। তাহলেই বন্ধ করা সম্ভব হবে নির্বিচারে মাছ শিকার।
মোল্লাহাটের নদী-খাল ও বিলগুলোতে দেশীয় মাছের নিরাপদ প্রজননক্ষেত্র নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান আরও বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় জেলে ও সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
| ফজর | ৫.৩০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪ টা বিকাল |
| মাগরিব | ৬ টা সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৩০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৪০ মিনিট দুপুর |

