মোঃ এখলাস শেখ, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি।। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান নিরাপদ পানির সংকট নিরসন, সুপেয় পানির অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন নাগরিক দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে নাগরিক সমাবেশ ও পদযাত্রা।
সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১০টায় মোরেলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলার ভুক্তভোগী নাগরিক সমাজ। কর্মসূচিতে সহযোগিতা করে বিএমজেড ও নেটজ বাংলাদেশ।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুল্লাহ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের নিরাপদ পানি ও টেকসই বেড়িবাঁধ নিশ্চিত করা এখন সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, লবণাক্ততা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা আজ নানা সংকটের মুখে পড়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, উপকূলবাসীর নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার জন্য তিনি জাতীয় সংসদে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং উপকূলীয় মানুষের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়টি আলোচনা করেছেন। ভবিষ্যতেও মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলাসহ উপকূলীয় এলাকার মানুষের ন্যায্য দাবি সংসদে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে জোরালোভাবে তুলে ধরার আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি বলেন, শুধু সাময়িক প্রকল্প গ্রহণ করলে হবে না; উপকূলীয় এলাকার মানুষের জন্য টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত সুপেয় পানির উৎস সৃষ্টি ও সংরক্ষণ এবং শক্তিশালী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে সরকারকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় জনপদে নিরাপদ পানির সংকট দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সুপেয় পানির উৎস সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ফলে উপকূলের সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে নিরাপদ পানির সংকটের প্রভাব নারী ও শিশুদের ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ছে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুল্লাহ বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততার কারণে এ অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট দিন দিন বাড়ছে। এ সমস্যা সমাধানে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন বেসরকারি ও সামাজিক সংগঠনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, নাগরিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরে বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এসময় জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সৃজন প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আব্দুল মান্নান উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপদ পানি নিশ্চিতকরণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম ও করণীয় বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।
তিনি বলেন, উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে নিরাপদ পানির বিষয়টি সরাসরি জড়িত। তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সৃজন প্রকল্পের ইউনিট ম্যানেজার মো. জিল্লুর রহমান।
নাগরিক সমাবেশে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব তুলে ধরে ৯ দফা নাগরিক দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে নিরাপদ পানির সংকট দ্রুত সমাধান, সুপেয় পানির উৎস সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এসময় আয়োজকরা জানান, এ নাগরিক সমাবেশের মাধ্যমে মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলার উপকূলীয় জনগণের দীর্ঘদিনের সমস্যা, বিশেষ করে নিরাপদ পানির সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের অংশগ্রহণে সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধানে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সমাবেশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য এবং নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশ শেষে নাগরিকদের অংশগ্রহণে একটি পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। পদযাত্রার মাধ্যমে উপকূলবাসীর নিরাপদ পানির অধিকার নিশ্চিতকরণ, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং ৯ দফা নাগরিক দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপদ পানির অধিকার এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যাগুলো জাতীয় পর্যায়ে আরও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হবে এবং সমস্যা সমাধানে কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
| ফজর | ৫.৩০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪ টা বিকাল |
| মাগরিব | ৬ টা সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৩০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৪০ মিনিট দুপুর |

