1. [email protected] : admi2019 :
| বঙ্গাব্দ

৫০ কোটি টাকা ঋণ, ১৮ মাসে ১৪০ কোটি ফেরতের চুক্তি: কুয়েট শিক্ষকের লেনদেন ঘিরে প্রশ্ন

রিপোর্টারের নামঃ Admin
  • আপডেট টাইমঃ 31-08-2026 ইং
  • 178 বার পঠিত
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক | দেখতে অতি সাধারণ একজন মানুষ। পেশায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। কিন্তু তার আর্থিক লেনদেনের একটি নথি ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। তিনি খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক মো. আতাউর রহমান। সম্প্রতি তার নামে থাকা একটি চুক্তিপত্র ও আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত নথি হাতে এসেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। ওই নথিতে দেখা যায়, একজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার বিপরীতে ১৮ মাসের মধ্যে ১৪০ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার শর্তে একটি চুক্তি করা হয়েছে।

নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, ৫০ কোটি টাকা গ্রহণের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১৪০ কোটি টাকা পরিশোধের বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়। অর্থাৎ ১৮ মাসের ব্যবধানে মূল অর্থের প্রায় তিন গুণ ফেরত দেওয়ার শর্ত রাখা হয়েছে। এ অর্থ পরিশোধের নিশ্চয়তা হিসেবে পাঁচটি চেক দেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথি থেকে জানা গেছে।

স্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের তুলনায় এত বড় অঙ্কের অর্থ এবং স্বল্প সময়ে প্রায় তিন গুণ অর্থ ফেরতের শর্ত কেন রাখা হয়েছিল—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক কীভাবে এত বড় অঙ্কের ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেনে জড়িত হলেন এবং এর পেছনে কী ধরনের আর্থিক সমঝোতা ছিল, তা নিয়েও অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে।

নথিতে ১৪০ কোটি টাকা ফেরতের শর্ত:

হাতে আসা নথিতে ৫০ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ১৪০ কোটি টাকা ফেরতের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ১৮ মাসের মধ্যে অর্থ পরিশোধের কথা এবং নিরাপত্তা হিসেবে পাঁচটি চেক দেওয়ার বিষয়ও নথিতে রয়েছে।

তবে এসব নথির সত্যতা, অর্থের প্রকৃত উৎস, লেনদেনের উদ্দেশ্য এবং চুক্তির আইনগত বৈধতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে নথিতে থাকা তথ্যকে আপাতত অভিযোগ ও দাবির ভিত্তিতেই দেখা হচ্ছে।

বক্তব্য জানতে চাইলে অস্বীকার:

এ বিষয়ে অধ্যাপক মো. আতাউর রহমানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেন বলে জানা গেছে। তবে পরবর্তীতে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ বা সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে তিনি হুমকিসূচক বক্তব্য দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে তার বিস্তারিত বক্তব্য এবং নথিতে থাকা তথ্যের ব্যাখ্যা জানতে পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তার কাছ থেকে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সরকারি প্রকল্পের দায়িত্ব নিয়েও অভিযোগ:

শুধু বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন নয়, অধ্যাপক আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের দায়িত্ব পালন নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।

কুয়েটের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অধ্যাপক অভিযোগ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে আতাউর রহমান বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের আর্থিক লেনদেনের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

ওই অধ্যাপকের দাবি, অতীতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ-ঘরানার প্রকৌশলী ও স্থানীয় ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন প্রকল্পের দায়িত্ব নিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ এই প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।

পাঠদান ও বিভাগীয় কার্যক্রম থেকে স্থগিত থাকার অভিযোগ:

বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্কের কারণে অধ্যাপক আতাউর রহমানকে গত প্রায় এক বছর ধরে পাঠদান এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের সিআরটিএসের কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন একজন শিক্ষক।

তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো লিখিত আদেশ, তদন্ত প্রতিবেদন বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তার পাঠদান থেকে বিরত থাকার কারণ ও সময়কালও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের নামে ৫০ কোটি টাকা গ্রহণ এবং ১৮ মাসে ১৪০ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার মতো অস্বাভাবিক আর্থিক চুক্তির অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই ও তদন্তের দাবি উঠেছে।

বিশেষ করে অর্থের উৎস ও ব্যবহার, চুক্তির প্রকৃতি, পাঁচটি চেকের বিষয়, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর সঙ্গে শিক্ষকের সম্পর্ক এবং সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক বা প্রাতিষ্ঠানিক যোগসূত্র ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Facebook Video
Facebook Video