1. [email protected] : admi2019 :
| বঙ্গাব্দ

সপ্নের খোঁজে কাতার স্বামী, কষ্টার্জিত অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুপে নিলেন স্ত্রী।

রিপোর্টারের নামঃ Admin
  • আপডেট টাইমঃ 16-09-2026 ইং
  • 25 বার পঠিত
ad728

অতনু চৌধুরী (রাজু) বাগেরহাট।।বাগেরহাটের মোংলায় মোঃ এনামুল ফকির নামের এক কাতার প্রবাসী কষ্টার্জিত অর্থ ও প্রায় ৭ থেকে ৮ ভরি স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী তানজিলা বেগম'সহ তার শশুর, শ্যালক ও শ্যালীকার  বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মোংলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই প্রবাসী। একই সঙ্গে স্ত্রী তানজিলার সঙ্গে খলিল নামে এক ব্যক্তির পরকীয়া  সম্পর্কের অভিযোগও করেছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে তানজিলা বেগমকে বিয়ে করেন এনামুল ফকির। সংসারের প্রয়োজনে তিনি কাতারে পাড়ি জমান। সেখানে থেকে পরিবারের জন্য নিয়মিত অর্থ পাঠানোর পাশাপাশি স্ত্রীর জন্য স্বর্ণালংকার তৈরি করেন বলে দাবি তার।

ভুক্তভোগী ও-ই কাতার প্রবাসী এনামুলের অভিযোগ, দেশে ফিরে স্ত্রী তানজিলার সঙ্গে খলিল নামে এক ব্যক্তির পরকীয়া  সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন। এ নিয়ে দাম্পত্য জীবনে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীর কাছে প্রবাস জীবনের উপার্জনের টাকা ও প্রায় ৭ থেকে ৮ ভরি স্বর্ণালংকার ফেরত চান।

এ সময় তাকে আসল স্বর্ণের পরিবর্তে সিটি গোল্ডের কিছু অলংকার দেখানো হয়। পরে স্থানীয় এক স্বর্ণের দোকানে নিয়ে গেলে সেগুলো সিটি গোল্ড বলে জানানো হয়। টাকা ও স্বর্ণ ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে গত ৯ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার স্ত্রী ও তার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় শ্বশুর ও শ্যালক তাকে গালিগালাজ, ভয়ভীতি ও মারধরের হুমকি প্রদান করেন। 

এ বিষয়টি স্থানীয়ভাবে  মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। বরং বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন এনামুল।

এ অভিযোগের ব্যাপারে অভিযুক্ত তানজিলা বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, তার স্বামীর আনা তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ গুলো এনেছে তা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে দাবি করেন।

এদিকে তানজিলার সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কের অভিযোগও অস্বীকার করেছেন খলিল নামে ও-ই  পরকীয়া প্রেমিক।  তার দাবি, এনামুল যে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গুলো  করেছেন, তার প্রমাণ দিতে হবে। অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ থাকলে তা উপস্থাপনের দাবিও জানান তিনি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পরকীয়া প্রেমিক খলিলের সাবেক স্ত্রীর দাবি, দাম্পত্য জীবনে খলিল তাকে বিভিন্নভাবে জ্বালা যন্ত্রনা করতেন। তাদের চার বছরের একটি পুত্র সন্তান ও রয়েছেন। একপর্যায়ে তিনি তার স্বামীর অন্য এক নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক ও নিয়মিত চ্যাটিংয়ের বিষয়টি জানতে পারেন। এ নিয়ে তাকে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে একপর্যায়ে খলিলকে ডিভোর্স দিতে বাধ্য হন বলে জানান তিনি।

দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে কষ্টার্জিত অর্থে সংসার ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন গড়ে তোলার পর তাদের দাম্পত্য বিরোধে সেই সংসার ভেঙে পড়া বা এ ঘটনায়  ৪'বছরের এক শিশু সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে দাবি তার। তবে টাকা ও স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগ এবং তার স্ত্রী  তানজিলা ও পরকীয়া প্রেমিক খলিলকে ঘিরে কথিত সম্পর্কের সত্যতা এখনো প্রমাণিত নয়। প্রশাসের তদন্তেই এসব অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কাতার প্রবাসী মোঃ এনামুল ফকির।

এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন জানান, তানজিলাকে ঘিরে এর আগেও নানা আলোচনা ছিল। তবে তার ব্যক্তিগত জীবন বা পেশা নিয়ে স্থানীয়দের এসব বক্তব্যের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

এ বিষয়ে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Facebook Video
Facebook Video